উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪০ সালের গৃহীত প্রস্তাবের সাথে 'লাহোর প্রস্তাবের' সাদৃশ্য আছে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশন বসে। এই অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক 'লাহোর প্রস্তাব' উথাপন করেন। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। লাহোর প্রস্তাব গ্রহণের আগ পর্যন্ত কংগ্রেস এবং ব্রিটিশ সরকারের সাথে আপোষ মীমাংসা করে চলা, কাকুতি-মিনতি করে স্বার্থ সংরক্ষণ করাই ছিল মুসলিম লীগ রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হবার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ উপস্থাপিত হয়। তবে পরবর্তীতে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয় এবং আরো পরে বাংলাদেশের জন্ম হয়। এই লাহোর প্রস্তাব 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে পরিচিতি অর্জন করে। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, তখন লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে খুঁজে পায়। লাহোর প্রস্তাব মূলত মুসলমানদের অধিকার বিষয়ক একটি প্রস্তাব। এই প্রস্তাবে মুসলমানদের স্বাধীনতার কথা, নতুন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। মুসলমানদের বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে মুসলমানদের দাবি মানতে ব্রিটিশ সরকার ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করেন। পাকিস্তান 'লাহোর প্রস্তাবের' দাবি অনুযায়ী মুসলমান রাষ্ট্র হয়ে জন্ম নেয়।
উদ্দীপকেও ১৯৪০ সালে ভারতবর্ষের একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় একটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেটি মূলত 'লাহোর প্রস্তাবকেই' নির্দেশ করে।