সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলটি উপমহাদেশের মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল।
কংগ্রেস নেতারা প্রথমে ভারতবর্ষের ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির কথা বললেও সেখানে মুসলিমদের দাবি ও গুরুত্ব ছিল অনুপস্থিত। নেতারা মুসলমানদের কথা না ভেবে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ ও মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেস নেতাদের অধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান শুরু করে। ফলে তারা ব্রিটিশদের প্রতি আরো আনুগত্য প্রকাশ করে।
কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত ভারতীয় এবং ব্রিটিশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল যে, ভারতীয়দের মধ্যে শুধু হিন্দুরাই একতরফাভাবে ব্রিটিশদের সুনজরে থেকে নিজেদের লাভবান করার সুযোগ পেল, আর মুসলমানরা বয়ে গেল অবহেলিত। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হলে কংগ্রেসের ব্রিটিশ ঘেঁষা নীতির কারণে উপমহাদেশে স্বাধীনতা আসে ১৯৪৭ সালে। কংগ্রেসের ব্রিটিশপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য বলা যায় মুসলমানেরা এক ঘরে হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের সাথে তাঁদের দূরত্ব বাড়তেই থাকে। এই দূরত্বের কারণে তারা শাসকশ্রেণির কাছ থেকে নিজেদের অধিকার ও দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও, কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার্থে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এক্ষেত্রে বলা যায়, কংগ্রেস মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।