উদ্দীপকে উল্লেখিত মহান নেতা তথা নবাব স্যার সলিমউল্লাহর রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানটি হলো বঙ্গভঙ্গ। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মুসলমান সমাজের একজন যোগ্য ত্রাণকর্তা। তিনি তার সমগ্র জীবন পূর্ববঙ্গের এবং সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। কলকাতার ধনী ও সামন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের একচেটিয়া আধিপত্যের নাগপাশ থেকে পূর্ব বাংলার অবহেলিত, নিবেদিত, বঞ্চিত জনসাধারনকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে ১৮৫০ সালে যে প্রস্তাব উপস্থাপন হয়েছিল নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন এ প্রস্তাবের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি। তিনি বাংলাকে বিভক্ত করার পক্ষে বিভিন্ন দাবি ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কলকাতার ধনী সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও সম্পদের অগ্রগামী থাকায় চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যিক কর্তৃক গ্রহণ করে কীভাবে তাদের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে আর পূর্ববঙ্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়েছে তা তুলে ধরেন। তিনি আরো উত্থাপন করেন, কিভাবে কলকাতা বাংলা প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানা কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আরো অন্যদিকে পূর্ববঙ্গের মানুষ বঞ্চিত হয়ে তারা আরও পশ্চাৎপদ হচ্ছিল। এসব যুক্তির আলোকে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ আশা পোষণ করেন, যদি বঙ্গ কে ভাগ করা হয় তাহলে পূর্ববঙ্গ ওয়েতে বসবাসকারী মুসলিমরা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ সকল দিকে এগিয়ে যাবে। লর্ড কার্জন তার উল্লেখিত যুক্তিসমূহের বাস্তবতা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে বঙ্গভঙ্গ করার উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজ যে বিরোধিতা ও আন্দোলন গড়ে তোলে তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। যা ভারতের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা যোগ করে। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবল বিরোধিতা ও উগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন তখন পূর্ব বাংলা হতাশাগ্রস্ত মুসলমানদের মনজয় ও পূর্ণ সমর্থন লাভের আশায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর দানকৃত জমিতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিা করেন। অতএব উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, নবাব স্যার সলিমুল্লাহর রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো বঙ্গভঙ্গ।