ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আইন এর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য অত্যাধিক। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়। এ আইনের দ্বারা গর্ভনর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্ত ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীন ভাবে বিলুপ্তি ঘটে। এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গর্ভনর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন্ট আর পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিনিতি।