উদ্দীপকে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কথা বলা হয়েছে। সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস উপমহাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল যা ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারতীয়দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। মূলত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে ভারতীয় কংগ্রেস ধর্ম, বর্ণ, গোএ নির্বিশেষে সর্ব শ্রেণি পেশার মানুষের সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও কালক্রমে কংগ্রেস হিন্দু নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ ও দাবি দাওয়া উপেক্ষিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও মুসলমানরা এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালে তা তীব্র রূপ লাভ করে। এ প্রেক্ষিতে ১৯০৬ সালে কতিপয় মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করার জন্য সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে মুসলিম লীগের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে এ দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয় দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারত এবং পাকিস্তান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটির একটি সম্প্রদায়ের দাবি - দাওয়া আদায় সোচ্চার হলেও অন্য সম্প্রদায় বঞ্চিত হয় এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে বঞ্চিত সম্প্রদায়টি অন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক দুটি দলের নেতৃত্বে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যা সুস্পষ্টতই সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগকে নির্দেশ করে। অতএব বলা যায় উদ্দীপকে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কথা বলা হয়েছে।