উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে নির্দেশ করেছে। কেননা, বর্ণিত বৈশিষ্ট্যাবলি অর্থাৎ গর্ভনর জেনারেল পথ সৃষ্টি, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত, বার্মার পৃথকীকরণ, কেন্দ্রের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার সৃষ্টি ও কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন কেবল ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এর অর্থ প্রদেশে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত থেকে প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক শাসনের ওপর কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়ী থাকবে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়নি। কারণ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন শুধু তত্ত্বগতই ছিল,বাস্তবে নয়। এ আইনের অধীনে গর্ভনর জেনারেল ছিলেন প্রভূত্ব ক্ষমতার অধিকারী এবং মহাপরাক্রমশালী শাসক প্রধান। মূলত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল অকার্যকর ও অর্থহীন ।পরিশেষে বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গর্ভনর জেনারেল, গর্ভনর এবং ভারতীয় সচিবের অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।