বঙ্গভঙ্গের ফলে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলের জনগণের তথা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের প্রতিক্রিয়া ছিল বিরূপ। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের অবস্থান ছিল খুবই কঠিন। বাংলার উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রচন্ড ঝড় তুলেছিল। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী একে বঙ্গমাতার অনুচ্ছেদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে। ঢাকায় হাইকোর্ট স্থাপনের ফলে কলকাতার আইন ব্যবসায়ীরা তাদের মক্কেল কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করতে থাকেন। অপরদিকে, কলকাতার সাংবাদিকরাও তাদের স্বার্থ ন্যাসৎ হবে জেনে এর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত হিন্দু সমাজ মনে করে, পূর্ব বাংলার ক্রমোন্নতিশীল শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন হিন্দু সমাজের বিকাশ রোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছেন। এর ফলে হিন্দু সমাজ বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে করার নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে গড়ে ওঠার স্বদেশী আন্দোলন। বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন যখন স্বদেশী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে তখন সারাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বদেশী পণ্যের প্রচার ও ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং বিলেতি পণ্যের বয়কট করা হয় ফলে বিলেতি কলকারখানা ও মিল ফ্যাক্টরি গুলোতে অচলাব্যবস্থা সৃষ্টি হয়।এছাড়াও এক পর্যায়ে স্বদেশী আন্দোলন বিপ্লবী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে সন্ত্রাসবাদি আন্দোলনের রূপ নেয়। অতএব উপলক্ষে আলোচনা প্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের ফলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের মধ্যে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল তার ভীতিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।