উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল তথা মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল। উদ্দীপকের বর্ণনায় যে রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো মুসলিম লীগ। আর উক্ত দলটি ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুসলিম লীগ জন্মলগ্ন থেকে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে থাকে। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় একসময় মুসলিম লীগের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ভারতে অখন্ডভাবে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হতে পারে না। তাই মুসলমানগন আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। শুধু আলাদা দলই নয়, আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেছিলেন। এ তত্ত্বের মূল কথা ছিল, ভারতের মুসলমানরা যেকোন বিবেচনার একটা স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের জাতিসত্তা রয়েছে। এ পৃথক জাতিসত্তার স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারতে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন। পরবর্তীতে মুসলিম লীগ নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাব দ্বিজাতি তত্ত্বের রূপরেখা হিসেবে কাজ করে। একই সাথে ব্রিটিশদের ভাগ কর ও শাসনকর নীতির ফল হিসেবে ভারতে হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অবস্থা গ্রহণ করে। ফলে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উপরিউক্ত আলোচনার শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দলটি তথা মুসলিম লীগ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।