উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ১৯১৯ সালের ভারতশর্শনের সাদৃশ্য রয়েছে। ভারতের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন। এ আইনটির নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান, ক্ষমতা বন্টন, দ্বৈতশাসন প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। উদ্দীপকে ভারত শাসনের একটি ধারা প্রাদেশিক দ্বৈতশাসন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের প্রদেশের দৈত্য শাসন বিষয়টির মূলত তুলে ধরা হয়েছে। এর আওতায় প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হত্যান্তরিত এ দুইভাগে ভাগ করা হয়। এ আইনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশের দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ আইনে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদ সৃষ্টি করা হয়। এ আইন অনুযায়ী গর্ভনর জেনারেল ইচ্ছা করলে আইনসভার কোনো পক্ষের মতবাদ না নিয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারেন। এ গর্ভনর জেনারেলকে সহায়তা করার জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শাসন পরিষদ গঠন করা হয়। এছাড়া এই আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মাধ্যমে সংসদীয় সরকার প্রবর্তন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান, প্রাদেশিক আইনসভা, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, উপদেষ্টা বোর্ড গঠন, ভারত সচিবের ক্ষমতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি, ভারতীয় হাই কমিশনারের পথ সৃষ্টির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অতএব পরিশেষে বলা যায়, এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও সাংবিধানিক সরকারের দিক দিয়ে এ আইনকে ভারতের সংবিধানিক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।