উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা,১৯৪৬ এর মিল রয়েছে। ভারতের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা ও হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করলে সকল প্রকারের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করা ছিল মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার লক্ষ্য। তাই ১৯৪৬ সালে মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস, লর্ড পেথিক লরেন্স ও এ. ভি আলেকজান্ডার ও তিনজন মন্ত্রী সমন্বয়ে একটি মিশন ভারতে পাঠায়। মিশনটি ভারতের নেতৃত্ববৃন্দের সাথে আলোচনায় মতৈক্য পৌঁছাতে না পারায় ১৯৪৬ সালে মে মাসে ভারতীয় সংবিধান প্রতিষ্ঠায় তার নিজস্ব পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা নামে খ্যাত। এ মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা ব্রিটিশ ভারতে এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি ভারত ইউনিয়ন গঠন করা হবে। এই ইউনিয়নের হাতে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় অর্পিত হবে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এশিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চলের জনগণের দাবি পূরণের লক্ষ্যে ক্যাবিনেটের তিন সদস্যকে দায়িত্ব দিলেন। তারা এই অঞ্চলকে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ আলোচনায় ঐক্যমত পৌঁছাতে না পেরে নিজস্ব বিবেচনা একটি পরিকল্পনা পেশ করলেন। এ পরিকল্পনায় জনগণের দাবি পূরণের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তাব ঘোষণা করলেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।