উদ্দীপকের দাবিগুলো অর্থাৎ ছয় দফা দাবি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক প্রভাব রাখে। ছয় দফা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ছয় দফা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ সুগম করনে উক্ত কর্মসূচি ভিত্তিক আন্দোলনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছয় দফা কর্মসূচি ভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে জাগ্রত বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির উদগ্র আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত করে। ছয় দফা আন্দোলন ক্ষণস্থায়ী হলেও তা বাঙালি জাতির রাজনীতির ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটায়। ছয় দফা আন্দোলন বাঙালিকে অধিকার সচেতন করে তোলার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেরণা যোগায়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পূর্ব পাকিস্তান একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অঞ্চল। এ অঞ্চলের জনগণের একটি স্বাধীন জাতিসত্তা আছে। ভাষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাদি কারণে তারা পশ্চিম পাকিস্তানি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের জাতীয় জীবনে সর্বস্তরের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের স্বপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় - যা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে আরো সুদৃঢ় করে। তাছাড়া ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ ঘটে তা ছয় দফা কর্মসূচি সংস্পর্শে এসে পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় এবং ছয় দফা কর্মসূচি ভিত্তিক আন্দোলন একপর্যায়ে বন আন্দোলনের রূপ নেয়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম সরকারি কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। ছয় দফা কর্মসূচি ভিত্তিক আন্দোলন পরবর্তীকালে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তর সাধারণ নির্বাচন এবং ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের পথকে সুগম করে। সুতরাং ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে - যার ফলশ্রুতিদের ধারাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে অবশেষে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। শুরু হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়।