উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশদের বহুদিনের শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ভারতীয়রা অনেকদিন ধরেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ভারতে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে চলে যায়। এ পরিস্থিতিতে ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইনের খসড়া বিল পেশ করা হয় এবং পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত ১৮ই জুলাই আইনটি পাস হয়। এ আইনের বদৌলতে ভারতবর্ষের ওপর থেকে দীর্ঘ ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারতের গর্ভনর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়। এরূপ বর্ণনায় ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এ আইনের সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো এই আইনে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামের দুটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, যেগুলো কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ফলে ভারত সচিব পথের কার্যকারিতা বিপুল হয়ে যায় এবং এই আইনে উক্তপত্রের অবসান ঘটানো হয়। একই সাথে এই আইনের রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি থেকে ব্রিটিশ রাজের ভারত সম্রাট উপাধি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া এই আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কিছু সংশোধনী আনা হয়। তন্মধ্যে ভারত পাকিস্তান মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক গর্ভনর জেনারেল নিয়োগ, স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা বিলোপ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।