উদ্দীপকে যে আইনের উল্লেখ রয়েছে সেটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীল ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। ১৯১৯ সালে ভারত শাসন আইন ভারতবর্ষের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ সরকার নিজেই ১৯২৮ সালে ভারতে সাইমন কমিশন পাঠায়। যার প্রেক্ষিতে ভারতে নানা রকম ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার একটি যুক্ত কমিটির গঠন করে এবং তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন পাশ করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে এই আইনটি ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ সংবিধান। উদ্দীপকের ছকে ক্ষমতা ও বিষয় বণ্টনের বিষয় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক বিষয়ে বিভক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয় পররাষ্ট্র, দেশরক্ষা, ডাক, তার, রেলপথ, বাণিজ্য। আর প্রাদেশিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয় আইন-শৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বন, সেচ। এসব বিষয় ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বৈতশাসনব্যবস্থাকে উপস্থাপন করে। এখানে শাসন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ছিল দেশের শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা কর্তৃত্বের বিষয় সমূহ কে তিনটি কর্তৃত্বের অধীনে রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করা। এই আইনের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর মাধ্যমে কেন্দ্রের দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় সমূহ সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ৩৩৫ সালে ভারত শাসন এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক স্বাদের শাসন প্রবর্তন। এ আইনের ১৯১৯ সালের প্রাদেশিক দ্বৈত শাসন রহিত করা হয় এবং দায়িত্বশীল সরকার প্রবর্তন করা হয়।