উদ্দীপকের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে ভারতের হিন্দু মুসলমান সম্পর্কে অবনতি হয় এবং কালক্রমে তা চরম রূপ পরিগ্রহ করে। নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃত্ববৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের সম্মেলনে লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। উদ্দীপকে লাহোর প্রস্তাবের পটভূমিই চিহ্নিত হয়েছে। উদ্দীপকে যে মহান নেতার প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তা হলো শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক কর্তৃক প্রবর্তিত লাহোর প্রস্তাব।
১. ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর-পশ্চিম অপূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ গঠন করতে হবে।
২. উল্লেখিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।
৩. ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চল গুলোর সমন্বয়েক পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে।
৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জনসংবিধানের পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে।
৫. প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষমতার সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য গুলোর উপর ন্যস্ত থাকবে।
এক্ষেত্রে ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণপূর্ব লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, লাহোর প্রস্তাব প্রথমত ছিল ভারতের হিন্দুদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ আর ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের দীপ্ত পদক্ষেপ। দ্বিতীয়তঃ রাজনৈতিক দৃষ্টিতে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুস্পষ্ট আবাস পরিলক্ষিত হয়েছিল।