উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের জনগণ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছিল। সবশেষে তাদের গণআন্দোলনের চাপে শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়ে ভারতকে দুটি অংশে ভাগ করে দেশ ত্যাগ করে। এ থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ভারত স্বাধীনতা আইনের বৈশিষ্ট্য ছিল অতিশয় তাৎপর্যমণ্ডিত।
এ আইন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর থেকে ১৯০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটায়। এ আইন ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। এর দ্বারা ডোমিনিয়ন দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সিন্ধু প্রদেশ, সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও পূর্ব বাংলা নিয়ে গঠিত হবে পাকিস্তান। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ নিয়ে ভারত রাষ্ট্র গঠিত হবে। প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য একজন গভর্নর জেনারেল থাকবেন। তিনি হবেন হেড অব দি স্টেট। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনে ভারত সচিবের পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ আইনে বলা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার পরামর্শে গভর্নর নিয়োগ করবেন। এ আইনে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন, বিচারবুদ্ধিজনিত ক্ষমতা ও বিশেষ দায়িত্ব বিলোপ করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এ আইনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করার কথা বলা হয়। এ আইনে ব্রিটিশ রাজা 'ভারত সম্রাট' উপাধি পরিত্যাগ করবেন। এ আইনে বলা হয়, ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্টের পর থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রণীত আইন ভারত ও পাকিস্তানের ওপর প্রযোজ্য হবে না।