উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে আমার পাঠ্য বইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক এবং শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা।
বঙ্গ কে বিভক্ত করায় প্রশাসনিক চুক্তি দেখিয়ে ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন ভারতের সচিব কে লেখেন যে, বঙ্গ প্রদেশের আয়তন দুই লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ। এ বিশাল আয়তন এবং বিপুল জনসংখ্যার অধ্যুষিত বাংলাকে একজন প্রশাসকের পক্ষে সুচারুরূপে শাসন করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে, প্রতিবেশী আসাম প্রদেশ ছিল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং জনসংখ্যা ও ছিল কম। এজন্য বাংলাকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামকে নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশের সৃষ্টি করা হয় -যার রাজধানী হয় প্রাচীন শহর ঢাকা। বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের তথা পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী হয়। রাজধানী ঢাকা কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ফলে মুসলমান গণ নানাবিদ সুযোগ-সুবিধা লাভে সক্ষম হয়। এতে করে পূর্ব বাংলার গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দ্বারা উন্মোচিত হয় এবং তারা খুশি হন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত সমাজ বঙ্গভঙ্গ কে মেনে নিতে পারেননি। তারা এর তীব্র বিরোধিতা করে।