লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের স্বাধীনতার বীজ নিহিত থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল এটি পুরোপুরি সত্য নয়-উক্তিটি যথার্থ।ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লাহোর প্রস্তাবের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এ ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে তার সার্থক পরিণতির ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং পরে স্বাধীন সার্বভৌম। বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এ প্রস্তাবে শুধু মুসলমানদের জন্য। একাধিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়নি; বরং এর প্রধান দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে পরোক্ষভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির আভাস পরিলক্ষিত হয়।লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গৃহীত হলেও এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বহন করেনি। প্রস্তাবটি মূলত সমগ্র মুসলিম জাতির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছিল, যা পূর্ব বাংলার জনগণের স্বতন্ত্র চাহিদা ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে উপেক্ষা করেছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব বাংলার মানুষ শাসন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বৈষম্যের শিকার হয়, যা তাদের স্বাধীনতার দাবি দৃঢ় করে। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রাম পাকিস্তানের ধারণার বিপরীতে এক ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিফলন। লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি হয় বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলস্বরূপ।সুতরাং লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের স্বাধীনতার বীজ নিহিত থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ ছিল না। এটি এক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল।