উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের তথা বঙ্গভঙ্গের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।বঙ্গভঙ্গ ছিল ব্রিটিশ সরকারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে ঔপনিবেশিক শাসনকে সুসংহত করা। এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক বিভাজন, রাজনৈতিক আন্দোলনের গতি ও ঐক্যের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এর ফলে ভারতীয় সমাজে যে বিভাজনের বীজ রোপিত হয়, তা পরবর্তীতে ভারত বিভাগের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার পথ প্রশস্ত করে।উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করলে তা একদিকে মুসলমানদের মাঝে প্রশাসনিক স্বীকৃতির আশ্বাস জাগায়, অন্যদিকে হিন্দুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এতে করে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং রাজনৈতিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ফলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অসন্তোষ থেকে স্বদেশি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, যা উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ হিসেবে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে মুসলিম লীগের জন্ম হয়, যা মুসলিম জাতীয়তাবাদকে সুসংগঠিত করে তোলে। এভাবে বঙ্গভঙ্গ একদিকে রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্দোলনের সূচনা ঘটালেও অপরদিকে ভারতীয় জনগণের ঐক্যে চিরস্থায়ী বিভক্তির রেখা টেনে দেয়, যার ফলস্বরূপ ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা গভীরতর হয় এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের সশস্ত্র বিরোধী তার কারণে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে তা রদ করতে বাধ্য হয়।সব মিলিয়ে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ছিল না; এটি ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল, যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বিভাজনের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।