উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রস্তাবটি হলো লাহোর প্রস্তাব। লাহোর প্রস্তাবের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক। ১৯৪০ সালে পেশকৃত এই প্রস্তাব মুসলমানদের জন্য একটি বা একাধিক স্বাধীন আবাসভূমির দাবি তুলে ধরে, যা পরবর্তীতে পাকিস্তান ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করে।ইতিহাসে দেখা যায়, লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল, যা ভারতের মুসলমানদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত করে। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে সমর্থন দেয় এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও একাধিক রাষ্ট্রের ধারণা পরিবর্তন করে কৌশলে একটি পাকিস্তান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবু পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা বজায় থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান হয়। এগুলোর শেষ পরিণতি ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। এভাবে, উদ্দীপকের প্রস্তাবের মতোই লাহোর প্রস্তাব মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকারের দাবিকে বেগবান করে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে তোলে।আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব শুধু পাকিস্তান নয়, বরং স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনার পেছনেও এক ঐতিহাসিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।