হ্যাঁ, উক্ত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাব পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিল।ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং স্বতন্ত্র জাতিসত্তা রক্ষার প্রয়োজনে কিছু প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, যার মধ্যে একটি বিশেষ প্রস্তাব ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। এই প্রস্তাব পরবর্তীতে শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্মই নয়, বরং নতুন রাষ্ট্রের অংশবিশেষে স্বাধীনতার চেতনা গঠনের বীজ রোপণ করে।উদ্দীপকে উল্লিখিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ঐ লাহোর প্রস্তাব, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। এ প্রস্তাব মুসলমানদের মাঝে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তার অনুভব জাগিয়ে তোলে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত বিভক্তি হলে পূর্বাঞ্চলে (বর্তমান বাংলাদেশ) ওই সময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। পাকিস্তান, প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার জনগণ যখন বৈষম্যের শিকার হয়, তখন লাহোর প্রস্তাবেই তারা অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান- সবই লাহোর প্রস্তাবের সেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারারই ধারাবাহিক রূপ। এভাবেই পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধিকার চেতনা একসময় স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম উৎস ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।আলোচনার শেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব শুধু পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত্তিই ছিল না, ছিল বরং স্বাধীন বাংলাদেশের পথরেখাও। এই প্রস্তাবেই নিহিত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার শিকড়।