উদ্দীপকের আইনটির সাথে আমার পঠিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার কয়েক দফায় আইনের সংস্কার করে। কিন্তু আইনগুলো কখনোই ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিশেষ করে ১৯৩৪ সালের পর আইনের সংস্কার করা হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়। এরূপ বর্ণনা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ আইনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো-◉সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বপ্রথম ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যের সমন্বয়ে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
◉ ১৯৩৫ সালের এ আইনে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়গুলো সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দুই ভাগে বিভক্ত। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের দ্বারা এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর জেনারেলের দ্বারা পরিচালিত হতো।
◉ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত-এ আইন দ্বারা সর্বপ্রথম একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠন করা হয়। এ আদালত সংবিধানের ব্যাখ্যাদান, কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করতে পারত।
◉ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃষি, শিক্ষা, স্থানীয় শাসন প্রভৃতির ওপর প্রাদেশিক সরকারের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হলেও বাস্তবে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে স্বায়ত্তশাসন ব্যাহত হয়।সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্রিটিশ ভারতের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।