উদ্দীপকের জনাব 'খ' তথা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত 'লাহোর প্রস্তাব' ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করার কথা মূলত লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে বলা হয়। এ প্রস্তাবে পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহকে অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিতকরণের কথা বলা হয়। ভৌগোলিকভাবে সন্নিহিত ও নির্দিষ্টকৃত অঞ্চলসমূহকে প্রয়োজনমত সীমানা পরিবর্তন করে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে ভারতবর্ষের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যেসব জায়গায় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন সম্ভব হয়। এছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত, ও সার্বভৌম অঙ্গরাজ্য গঠন, সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ, ক্ষমতার নির্দিষ্টকরণ, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বাতিল ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্য। ভারতীয় উপমহাদেশে অনেকগুলো স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাতিল, সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয় লাহোর প্রস্তাবে আলোচিত হয়েছে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের এ প্রস্তাবের মাধ্যমে পূর্ব পকিস্তানে প্রথম মুসলিম লীগের পতাকা উত্তোলিত হয়। ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়। এ ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে তার সার্থক পরিণতির ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং পরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এ প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো স্বার্থের দ্বন্দ্ব শুরু, মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ও সম্পর্কের অবনতি এবং পরবর্তীতে, নানা ঘটনা প্রতিঘটনার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। সুতরাং বলা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে লাহোর প্রস্তাব এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের নাম।