উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য আছে।১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অবস্থার মারাত্মক অবনতির কারণে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐক্য প্রতিষ্ঠার সকল আশার অবসান ঘটে এবং মুসলিম লীগ মন্ত্রিমিশন প্রস্তাবিত গণপরিষদে অংশগ্রহণে অসম্মতির ফলে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভারত ত্যাগের ঘোষণা দেয়। আর এ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়। মাউন্টব্যাটেন তৎকালীন ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত বিভাগের একটি বাস্তব ও সর্বসম্মত পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকারের নিকট পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন এ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তাই এ পরিকল্পনা ৩ জুন পরিকল্পনা নামে খ্যাত। কেউ কেউ আবার একে মাউন্টব্যান্টেন পরিকল্পনাও বলে থাকেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুনের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে কার্যকর করার জন্য ১৯৪৭সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ আইন পরিষদে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাশ করা হয়। ভারতীয়দের শাসন ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ সাংবিধানিক পদক্ষেপ হচ্ছে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন। এ আইনের ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭-সালের ১৪ আগস্ট ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু, বেলুচিস্তান, পশ্চিম পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পূর্ব বাংলা, আসামের কাছাড় ও সিলেট জেলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং পাকিস্তানে যোগদানেচ্ছু দেশীয় রাজ্য নিয়ে পাকিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের অবশিষ্টাংশ ও ভারতে যোগদানেচ্ছু দেশীয় রাজ্য নিয়ে ভারত গঠিত হয়। তেমনিভাবে উদ্দীপকের আইনেও দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুটি সম্প্রদায়ের জনগণের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ।