উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: উদ্দীপকে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অর্থাৎ 'মন্টেগু- চেমসফোর্ড সংস্কার আইন' এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবির মুখে এবং পর্যায়ক্রমে অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাশ করা হয়। যা স্পষ্টভাবে ভারত শাসন আইন ১৯১৯' এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। নিচে উক্ত আইনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হলো- ১. হাইকমিশনার এর পদ সৃষ্টি: এ আইনে ব্রিটেনে ভারতীয় হাইকমিশনারের পদ সৃষ্টি করা হয়। তিনি ব্রিটেনে ভারতীয় ছাত্র ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়াদি তত্ত্বাবধান করতেন । তিনি ৫ বছরের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক নিয়োগ লাভ করতেন। ২. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় রূপান্তরিত করা হয়। উচ্চ কক্ষের নামকরণ হতেন করা হয় রাষ্ট্রীয় পরিষদ (Council of State) এবং নিম্ন কক্ষের নামকরণ করা হয় ব্যবস্থাপক সভা (Legislative Assembly)। উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা ছিল ৬০ জন, যার ৩৪ জন নির্বাচিত এবং বাকি. ২৬ জন গভর্নর জেনারেল কর্তৃক মনোনীত হতেন। একইভাবে নিম্ন কক্ষের মোট ১৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ১০৫ জন ছিলেন নির্বাচিত এবং বাকি ৪০ জন ছিলেন মনোনীত। ৩. প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা: এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এ ব্যবস্থা অনুসারে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়ে ভাগ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ, রাজস্ব প্রভৃতি বিষয়সমূহ সংরক্ষিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অপরদিকে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি বিষয়গুলো ছিল হস্তান্তরিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। সংরক্ষিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক গভর্নর তার শাসন পরিষদের মাধ্যমে শাসন করতেন। এক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রিপরিষদের কোনো পরামর্শ নিতেন না। পক্ষান্তরে হস্তান্তরিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক গভর্নর তার মনোনীত সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শক্রমে শাসন করতেন।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট…
উদ্দীপক
Dhaka · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর