এই আইনের ধারাবাহিকতায় ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। ফলে তারা আলাদা রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নেয়। এ বৈশিষ্ট্যের সূত্র ধরেই ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে হিন্দু-মুসলিম উভয়ই আলাদা জাতি, আর এ নীতি পাকিস্তান-ভারত নামক আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পথ তৈরি করে দেয়।১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তারা হিন্দু অধ্যুষিত প্রদেশগুলোতে মন্ত্রিসভা গঠন করে। এসব অঞ্চলে তারা হিন্দু রীতিনীতির প্রবর্তন করায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। কংগ্রেসের বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের হতাশা সৃষ্টি করে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করে- হিন্দুস্থান হিন্দুদের জন্য। কংগ্রেস সরকারের অধীনে মুসলমানরা তাদের কাছে সততা বা ন্যায়নীতি কোনোটিই আশা করতে পারে না। এরূপ পরিস্থিতিতে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের (হিন্দু- মুসলিম আলাদাজাতি) ভিত্তিতে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি তোলা হয়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৪৬ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশগুলোতে উভয় সম্প্রদায় আলাদা আলাদাভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৪৬ সালে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থ হয়। তাছাড়া মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যায়। তারপরও তারা পরিকল্পনার প্রতি নমনীয় থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগদানের ইচ্ছা পোষণ করে। কিন্তু কংগ্রেস মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় তাদের স্বার্থগত বিষয়গুলোকে সমর্থন দেয়। এরূপ পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে নানা বিরোধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় শাসনব্যবস্থায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করলে তা দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ভারতের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের পরস্পর বিরোধী ভূমিকার কারণে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়নে বাধ্য হয়। ফলে জন্ম নেয় ভারত-পাকিস্তান নামক দুটি আলাদা রাষ্ট্র।পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে উল্লিখিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতার দাবিতে রূপ লাভ করে। ফলে নানা ধারাবাহিক ঘটনার প্রেক্ষিতে জন্ম নেয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
এই আইনের ধারাবাহিকতায় ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়- বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপক
Sylhet · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর