উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের ধারনাটি হলো ১৯১৯ সালে ভারত শাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা প্রদেশের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যেমন-১. সংরক্ষিত বিষয় এবং২. হস্তান্তরিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গর্ভনর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। আর সংরক্ষিত বিষয় কেবল গর্ভনর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এসব প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অবহিত করা হয়। ভারতীয়দের দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে এবং ভারতের শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে মন্টেগু ও চেমসফোর্ড - এর নেতৃত্বে ১৯১৮ সালে যে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার রিপোর্ট প্রদান করা হয় তার ওপর ভিত্তি করে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন প্রবর্তিত হয়। এ আইনের একটি আকর্ষণীয় ও সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রদেশের দ্বৈতশাসন।এই দ্বৈতশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রদেশের দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন, যার মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যগণ বিশেষ করে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ তাদের যাবতীয় দায়িত্বের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। তবে এ ব্যবস্থা সফল হতে পারেনি। কারণ প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে কৃত্রিমভাবে গঠিত দুটি সংস্থার হাতে অর্পণ করার ফলে সরকারের স্বাভাবিক কর্ম প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। এছাড়াও মন্ত্রিসভার দায়িত্বাহীনতা, দলীয় রাজনীতির অনুপস্থিতি, সংসদীয় ঐতিহ্যের অভাব, বিষয় বন্টনের ত্রুটি,মন্ত্রিসভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্ত ইত্যাদি কারণে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের এই ধারাটি সফলতার পথে আসতে পারেনি। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের এই ধারাটির কার্যকারিতা মোটে এর প্রণয়নের উদ্দেশ্যকে সফল করতে পারেনি।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Barisal · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর