প্রজারা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। পলাশীর যুদ্ধের ফলাফলের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রজারা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। পলাশীর যুদ্ধের ফলাফলের আলোকে যথার্থ।পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭) বাংলার ইতিহাসে এক গভীর সংকটময় অধ্যায়ের সূচনা করে, যা প্রজাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বঞ্চনার প্রতীক হয়ে ওঠে। এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার দখল করে এবং উপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। এর ফলে প্রজারা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।সামাজিক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা চালু করে, যা কৃষকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। জমিদারদের হাতে প্রজাদের শোষণ আরও বৃদ্ধি পায়, এবং কৃষকরা জমির অধিকার হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার স্বশাসন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। ব্রিটিশরা প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে এবং প্রজাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলার শাসনব্যবস্থায় প্রজাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে যায়, এবং তারা তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতিও বঞ্চিত হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ব্রিটিশদের একচেটিয়া বাণিজ্য নীতি ও কাঁচামালের শোষণ বাংলার কুটির শিল্প ধ্বংস করে দেয়, বিশেষত মসলিনের মতো বিখ্যাত বস্ত্রশিল্প। কৃষিজীবী প্রজারা উচ্চ করের চাপ এবং দুর্ভিক্ষের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ শাসকদের শোষণমূলক নীতি ও সম্পদ লুণ্ঠনের ফলে বাংলার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং সমাজের সর্বস্তরে দারিদ্র্যের বিস্তার ঘটে।আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধ কেবল বাংলার ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এটি ছিল একটি শোষণমূলক শাসনব্যবস্থার সূচনা, যা প্রজাদের অধিকারকে ছিন্নভিন্ন করে এবং বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে চিরতরে বদলে দেয়।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
প্রজারা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। …
উদ্দীপক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর