উক্ত আইনটির কার্যকারিতা কেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা ছিল সীমিত।১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্য ছিল প্রদেশগুলোকে স্বাধীনভাবে শাসনেরসুযোগ দেওয়া। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ তৈরি করতে চেয়েছিল। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় দ্বৈতশাসনের প্রেক্ষাপটে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তত্ত্বগতভাবে প্রতিষ্ঠা পেলেও বাস্তবে তা পুরাপুরি কার্যকর হয়নি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ক্ষমতায় আসে এবং কিছু ক্ষেত্রে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠন করে। তবে কংগ্রেস মুসলিম লীগকে উপেক্ষা করে এককভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করে, যা দ্বন্দ্ব বাড়ায়। যদিও ব্রিটিশ সরকার গভর্নরের অনুপ্রবেশ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বিহার ও যুক্ত প্রদেশে রাজবন্দিদের মুক্তি ইস্যুতে মতানৈক্য স্পষ্ট হয়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতকে জড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় কংগ্রেস পদত্যাগ করে, যা স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়নে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ও মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় থাকলেও তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি স্বীকৃতি পায়নি। সর্বোপরি, গভর্নর জেনারেল, গভর্নর ও ভারত সচিবের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব রূপ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।সুতরাং বলা যায়, ১৯৩৫ সালের আইনে 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তিত হলেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, একচেটিয়া মনোভাব ও ব্রিটিশ শাসকদের নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উক্ত আইনটির কার্যকারিতা কেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়? বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Dinajpur · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর