উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধে কে সিংহাসনচ্যুত হয়ে ছিলেন? যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত যুদ্ধে তথা পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ- দৌলা সিংহাসনচ্যুত হয়েছিলেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষের শাসকদের অদক্ষতা বোঝতে পেরে শাসন ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৭৫৭ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভারতের শাসন ক্ষমতা দখল করে প্রায় ২০০ বছর শাসনকার্য চালায় । এখানে ১৭৫৭ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বলতে পলাশীর যুদ্ধকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। উক্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রয়েছে সিংহাসন নিয়ে নবাব পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব, রাজসভাসদ ও ইংরেজদের ষড়যন্ত্র ছিল 'পলাশীর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। ১৭৫৬ সালে নবাব আলীবাদী খানের মৃত্যুর পর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। সিংহাসনে বসেই তিনি খালা ঘসেটি বেগম এবং খালাতো ভাই পুর্নিয়ার শাসনকর্তা শওকত জং-এর ষড়যন্ত্রের শিকার হন । তারা নবাবকে হটাতে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। নবাবের সহচরদের মধ্যে রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, ইয়ার লতিফ, উমিচাঁদ, মানিক চাঁদ ও প্রধান সেনাপতি মীরজাফর এ ষড়যন্ত্রে যোগ দেন। ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ এই ষড়যন্ত্রে সফল হন। মীরজাফর নবাবির বিনিময়ে ইংরেজদেরকে পৌনে দুই কোটি টাকা পুরস্কার দিতে রাজি হন। এ ব্যাপারে ক্লাইভ, মীরজাফর, জগৎশেঠ ও উমিচাঁদের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়। রবার্ট ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সন্ধি ভঙ্গের মিথ্যা অভিযোগ এনে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাবের বাহিনী ও ইংরেজ বাহিনী ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী প্রান্তরে মুখোমুখি হয়। তবে প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে। মীরজাফর যুদ্ধক্ষেত্র নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। আর তারই পরামর্শে নবাব যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। যুদ্ধবিরতির সময় ইংরেজরা অপ্রস্তুত নবাব বাহিনীকে আকস্মিক আক্রমণ করে। ফলে সিরাজ-উদ-দৌলার পতন ঘটে।
HSC Civics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধে কে সিংহাসনচ্যুত হয়ে ছিলেন? যুদ্ধের প্রেক্…
উদ্দীপক
নটরডেম কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর