উক্ত নির্বাচনে বিজয় পাকিস্তানের পূর্ব অঞ্চলের মানুষকে পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালির দীর্ঘকাল থেকে চলে আসা স্বাধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। উক্ত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের ফলে মুসলিম লীগের সুদীর্ঘ সাত বছরের কুশাসন, শোষণ ও অত্যাচারের সাময়িক অবসান ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নিকট এ নির্বাচন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কবল হতে মুক্তিলাভের একমাত্র উপায় বলে বিবেচিত হয়। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বাঙালিরা মনে করেছিলেন যে, এখন আর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাঙালিরা তখন থেকে আত্মসচেতন হয়ে ওঠে এবং স্বশাসন দাবি করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এই যে, এ নির্বাচন প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মুসলিম লীগের দীর্ঘ সাত বছরের শাসনব্যবস্থার অধীনে থেকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রায় হারাতে বসেছিল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তারা এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদেরকে নিজেরা শাসন করার ক্ষমতা ও সুযোগ লাভ করেন। ১৯৫৪ সালের বিজয় ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়েরই একটি রূপ। এ বিজয় বেশিদিন ধরে না রাখতে পারলেও বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। ফলে এ নির্বাচন হয়ে ওঠে বাঙালির উৎসাহ, প্রেরণা ও দৃষ্টান্ত যা তাদের স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করে।
অতএব, উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, স্বাধিকার আন্দোলন গতিশীল করা ও বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের তাৎপর্য অত্যধিক।