বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে বলে আমি মনে করি।উদ্দীপকের ঘটনা এবং সম্প্রতি সংঘটিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন একই সূত্রে গাথা। ভাষা আন্দোলন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথমদিকে পুরাভাগে ছিল ছাত্ররা। ভাষা আন্দোলনকে ছাত্ররা বেগবান করে তোলার পর সর্বস্তরের জনগণ উক্ত আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। তেমনিভাবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন এ আন্দোলনের সাথে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন উভয়ই নিপীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ভাষা আন্দোলন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। একইভাবে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষা, সুযোগ এবং সামাজিক সমতায় বৈষম্যের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ প্রতিবাদ। দুটি আন্দোলনই তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, যেখানে ঐক্য, সাহস এবং ত্যাগ একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। দুটি আন্দোলনই সফল আন্দোলন। ১৯৫২ সালের আন্দোলন যেমন ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি মজবুত করেছিল, তেমনই সাম্প্রতিক আন্দোলন বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ গঠনের প্রেরণা জোগায়। উভয় আন্দোলনই মুক্তি ও সমতার চেতনার স্মাবক।আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে চেতনা জাগ্রতকরণে উভয় আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।