উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচির তথা ছয় দফা কর্মসূচি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।একটি অঞ্চল যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়, তখন সেই জনগণ মুক্তির উপায় খোঁজে। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের শোষিত মানুষের জন্য এমনই একটি মুক্তির সনদ, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। তৎকালীন পাকিস্তানে বাঙালিরা শাসন, অর্থনীতি, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা-সবখানেই অবহেলিত ও বঞ্চিত ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান এই বৈষম্যের অবসান এবং পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে ছয় দফা পেশ করেন। এতে বাঙালিরা তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের বাস্তব ভিত্তি পায়। ছয় দফা ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের প্রাণের দাবি, যা সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন লাভ করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই দাবিকে দেশবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে দমননীতি গ্রহণ করে, যার ফলে গণআন্দোলন তীব্র হয়। এই ধারাবাহিকতায় ঘটে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তাই ছয় দফাকে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাঙালির জাতিসত্তার জাগরণ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মাইলফলক বলা যায়।সার্বিকভাবে বলা যায়, ছয় দফা ছিল বাঙালির আত্মনির্ভরতার ঘোষণাপত্র, যা পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার মূল প্রেরণা জুগিয়েছিল।