উদ্দীপকে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রটিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য গড়ে ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে জন্মের প্রায় ২২ বছর এক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। অর্থাৎ উদ্দীপকটি আমার পঠিত ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকেই ইঙ্গিত করছে।১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের পর পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়। এই ক্ষোভপরিণত হয় গণপ্রতিরোধে, যা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কেননা, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের প্রায় ২২ বছর পর এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বুঝতে পারে যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সৃষ্ট রাষ্ট্রে তাদের আত্মপরিচয়, অধিকার ও মর্যাদা অবনমিত হচ্ছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে জনজীবন সংকটময় হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হওয়ায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকে উন্নয়ন থেকে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সামরিক শাসন, মৌলিক গণতন্ত্রের নামে অধিকার হরণ এবং ছয় দফার মতো ন্যায্য দাবিতে দমন-পীড়ন চালানো জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। গ্রামীণ সমাজে মনোনীত প্রতিনিধিদের দুর্নীতিও জনবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। এসব কারণেই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।