উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংবিধান হলো ১৯৫৬ সালের সংবিধান। এটি নানা বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ছিল।পাকিস্তানে একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের দাবি বহুদিনের। ১৯৫৬ সালের সংবিধান ছিল সেই দাবির প্রতিফলন, যা একটি স্বাধীন, প্রজাতান্ত্রিক ও ইসলামি ভাবধারাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি শুধু পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান নয়, বরং সে সময়কার রাজনৈতিক সমঝোতা, সংখ্যাসাম্য এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীকও ছিল।উদ্দীপকে উল্লিখিত ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া সংবিধান হলো ১৯৫৬ সালের সংবিধান। এই সংবিধানটি গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতি দেয়। এটি ছিল লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়, যাতে কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতা বিভাজন, সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান ব্যাখ্যার অধিকার, এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। ইসলামি ভাবধারা অনুসরণ করলেও এতে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার কথাও বলা হয়। সংখ্যাসাম্যের নীতি গ্রহণ করে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাম্য আনয়নের চেষ্টা করা হয়। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, যেমন বাকস্বাধীনতা, ধর্মচর্চা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সংরক্ষিত ছিল। সর্বোপরি, ১৯৫৬ সালের সংবিধান একটি প্রজাতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছিল, যদিও শাসকগোষ্ঠীর আন্তরিকতার অভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।