উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়।১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তৎকালীন পাকিস্তানের অংশ পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু বাংলাভাষী জনগণ এ আন্দোলন গড়ে তোলে। বাংলা পাকিস্তানের মোট জনগণের সিংহভাগ মানুষের ভাষা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে সংখ্যালঘুর ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বাঙালি জাতি তা মেনে নেয়নি। তারা এ ঘোষণার বিরুদ্ধে সাথে সাথেই প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন দুর্বার আন্দোলনে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এ আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেয়। কিন্তু সরকার ঐদিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্রজনতা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে শহিদ হন। দেশব্যাপী আন্দোলন চরম আকারে ছড়িয়ে পড়লে সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়।উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এই রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু এর প্রতিবাদে ওই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। স্পষ্টত, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের প্রতিরূপ অঙ্কিত হয়েছে, যা উভয়কে অভিন্নভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঐতিহাসিক আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।