উক্ত সংবিধান তথা ১৯৫৬ সালের সংবিধান ব্যর্থতার পিছনে নানা ধরনে কারণ ছিল।১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধান ছিল পাকিস্তানের প্রথম গণতান্ত্রিক সংবিধান, যা একটি ফেডারেল, পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থার কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়। তবে সংবিধানটি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই বছরের মধ্যে তা ব্যর্থ হয় এবং সামরিক আইন জারি করা হয়। এই ব্যর্থতার পিছনে বেশ কিছু কারণ ছিল।উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধানের ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল এর কাঠামোগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য। সংবিধানটি প্রণীত হয়েছিল দেশের দ্বি-অঞ্চলভিত্তিক বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাহিদাগুলো উপেক্ষা করে, যা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে গভীর বৈষম্য তৈরি করে। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দাবি করলেও পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসকগোষ্ঠী এই দাবিকে অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জাতিগত ও আঞ্চলিক বিভক্তি আরো তীব্র হয়। সংবিধানে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অত্যধিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়, যা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি উপেক্ষা করে। এ ছাড়া, সামরিক বাহিনী ও আমলাতান্ত্রিক শ্রেণির প্রভাব সংবিধানের কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সংমিশ্রণ সংবিধানকে আরও জটিল করে তোলে, কারণ ইসলামিক রাষ্ট্রের আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। একই সঙ্গে, সংবিধানের ধারা ও বিধানগুলো ছিল অস্পষ্ট এবং বাস্তবায়নের উপযোগী আইনগত কাঠামো থেকে বঞ্চিত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল নেতৃত্ব, এবং ক্ষমতাসীনদের অনৈক্যও সংবিধানের কার্যকারিতা নষ্ট করে। । এসব কারণে সংবিধানটি জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।