উদ্দীপকে নির্দেশিত সরকারের অঙ্গটি হলো বিচার বিভাগ।সরকারের যে বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে ও নিরপরাধকে মুক্তি দেয় এবং জনগণের অধিকার রক্ষা করে, তাকে বিচার বিভাগ (Judiciary) বলে।যেকোনো রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায়সমূহ নিম্নরূপ:প্রথমত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ, সৎ, সাহসী এবং দলীয় রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্কহীন ব্যক্তিদেরকে বিচারপতি পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।দ্বিতীয়ত, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে শাসন বিভাগ কর্তৃক সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতিই উত্তম। এক্ষেত্রে বিচারকমণ্ডলীর সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থায়ী কমিটির সুপারিশক্রমে শাসন বিভাগ কর্তৃক বিচারক নিয়োগ করা জরুরি।তৃতীয়ত, বিচারপতিদের কার্যকালের স্থায়িত্ব বিধান করা প্রয়োজন। কেননা কার্যকালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত থাকলে বিচারকগণ নির্ভয়ে ও সততার সাথে বিচারকাজ সম্পাদন করতে পারেন।
চতুর্থত, বিচারকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা প্রদান করতে হবে। ফলে তারা সৎ ও নির্লোভ থাকবে এবং হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না।পঞ্চমত, উপযুক্ত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সময়মত বিচারকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।ষষ্ঠত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকা অত্যাবশ্যক।সপ্তমত, বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে হবে। তাহলে জনরোষের ভয়ে ক্ষমতাসীন সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাবে না।অষ্টমত, প্রয়োজনবোধে জনগণ ও রাজনীতিবিদগণ কর্তৃক আন্দোলনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীন বিচার বিভাগ আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য পূর্বশর্ত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া ব্যক্তি অধিকার সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।