উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার।যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। এ সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে। প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রিসভা অতিসহজেই আইন পরিষদে আইন পাস করে নিতে পারে। কেননা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্য। শাসন বিভাগ তাদের স্থায়িত্ব এবং কার্যকালের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। ফলে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে। বিকল্প সরকার হিসেবে বিরোধী দল গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা দ্বারা সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরে। ফলে সরকার কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। শাসন বিভাগকে তাদের গৃহীতনীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন সভার নিকট দায়ী থাকতে হয়। ফলে শাসন বিভাগ স্বৈরাচারী হতে পারে না। সংসদীয় সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে সরকার গঠিত হয়। ফলে নীতিগ্রহণ ও বাস্তবায়নে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। এ শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেদেরকে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অন্যান্য রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে অপেক্ষাকৃত উত্তম। সুতরাং, গণতান্ত্রিক উন্নয়নে এ সরকার জরুরি।