উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশের সরকারের বিভাগসমূহের মধ্যে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে, শাসন বিভাগ শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে।সুজনের সরকারের মতো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার আস্থা-অনাস্থার ওপর। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ছাড়াও সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, অবসর প্রদান, তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ ও প্রদান, প্রশাসনিক নিয়মাবলি প্রণয়ন, জরুরি আইন, অধ্যাদেশ জারি প্রভৃতি কাজ করে থাকে। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও এগুলোর সদস্যপদ গ্রহণ এবং সেখানে প্রতিনিধি প্রেরণ করা শাসন বিভাগের কাজ। এমনকি শাসন বিভাগ কিছু কিছু আইন প্রণয়নসংকান্ত কাজও করে থাকে। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে। কেননা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণ আইনসভারই সদস্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের অন্য দুটি বিভাগের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগ ন্যায়নীতির মাধ্যমে অনেক সময় আইন প্রণয়ন করে। একাধিক আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিচারকগণ নতুন নতুন আইন সৃষ্টি করেন। সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ যেকোনো আইন বাতিল করতে পারে। এভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সরকারের কোনো বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পরে না।