উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর পেনশনের টাকা সময়মতো না পাওয়ার জন্য আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্যই দায়ী- এ বিষয়ে আমি একমত।আমলারা রাজনৈতিক প্রশাসকদের মতো জনপ্রতিনিধি নন। আমলাদের শিক্ষাদীক্ষা, জীবনধারণ পদ্ধতি, গোষ্ঠীগত সংহতি, দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুই অনেকটা ভিন্ন প্রকৃতির। অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে আমলারা নিজেদেরকে প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী ও সেবক না ভেবে নিজেদেরকে জনগণের প্রভু মনে করেন। ফলে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জনবিচ্ছিন্ন থাকতে তারা ভালোবাসেনও। আমলারা খুব বেশি আনুষ্ঠানিক। সবকিছুই তারা করতে চান প্রশাসনিক নিয়মনীতি ও বিধিবিধানের আলোকে। এর ফলে জনগণের সমস্যার মানবিক দিকটি উপেক্ষিত হয়। সমস্যা সমাধানে বিধি মোতাবেক যথাযোগ্য নিয়মে অগ্রসর হতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং এ সমস্যা ততদিনে আরও জটিল হয়ে পড়ে। জনগণের চাওয়া-পাওয়া, আবেদন-নিবেদন অফিসের ফাইলের 'লালফিতার বাঁধনে' আটকা পড়ে থাকে। জনগণের হয়রানি ও দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এর ফলে শুধু আমলাতন্ত্রই অপ্রিয় হয়ে ওঠে না, নির্বাচিত সরকার ও জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। আমলাতন্ত্রের এ লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাদেরকে জনগণের প্রভু সাজার মানসিকতা তৈরি করে দেয়। এমনকি আমলাদের একটি অংশের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণের মানসিকতাও বৃদ্ধি করে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকে জনাব 'ক' তার পেনশনের টাকা যে সময়মতো পায়নি তার জন্য আমলাতন্ত্রের এই লালফিতার দৌরাত্ম্যই দায়ী।