উদ্দীপকে পদ্মা সেতু নির্মাণে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে।
মানুষের প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। মানব জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনই রাষ্ট্রের কাজ। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র প্রধানত দুই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। যথা: নিয়ন্ত্রণমূলক ও কল্যাণমূলক। এ দুই ধরনের ভূমিকার ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা: অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি এবং কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি। উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্মা সেতু নির্মাণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে প্রত্যেক রাষ্ট্রই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাবি করে। রাজনৈতিক তত্ত্ববিদরা একসময় ভাবতে শুরু করেন যে, রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয় । রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। জনকল্যাণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের এ কাজগুলো ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কাজ। রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো— রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল রাখা, শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, সড়ক-রেলপথ নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ স্থাপন ইত্যাদি ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, সেতু নির্মাণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। তাই পদ্মা সেতু নির্মাণে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যই প্রতিফলিত হয়েছে।