জনসচেতনতা বৃদ্ধি তথা জনমত গঠনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তাই উদ্দীপকে উল্লেখিত পোস্টার ও সভা-সমাবেশ মাধ্যম দু'টি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেও জনমত গঠনে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি । 'জনমত গঠনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। জনমতের প্রাথমিক মাধ্যম হলো পরিবার। প্রতিটি মানুষ প্রথমে তার পরিবারেই দেশ, জাতি, সরকার ও বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রচার মাধ্যম জনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জনগণ দেশ-বিদেশের খবরাখবর জানতে পারে যা তাদের মতামত গঠনে সহায়তা করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জন করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অনুকূল পরিবেশে বহুমুখী জ্ঞান লাভ করে যা তাদের চিন্তা-চেতনার ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে । প্রচার ও বিনোদন মাধ্যম হিসেবে রেডিও, টিভি ও চলচ্চিত্র জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনমত গঠনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কতগুলো আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। দলীয় আদর্শকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনি কর্মসূচি ঘোষণা ও প্রচার করে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। তাদের নানামুখী প্রচারণায় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটে এবং জনমত গড়ে ওঠে। আইনসভা জনমত গঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় নিজ নিজ এলাকার জনগণের অভাব-অভিযোগ পেশ করে এবং উক্ত অভাব-অভিযোগের ওপর তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়। এতে জনগণ নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পায়। এছাড়া ধর্মীয় সংঘ, পেশাজীবি সংগঠন, বন্ধুবান্ধব, কর্মক্ষেত্র, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে হিসেবে কাজ করে।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, পোস্টার ও সভা- সমাবেশ ছাড়াও জনমত গঠনের আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্দীপকে উল্লেখিত এ দুটি মাধ্যম যথেষ্ট নয়— উক্তিটি যথার্থ।