উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি অঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে অবশ্যই দ্বিতীয় অর্থাৎ 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাম্য। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'ক' অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো: সংকীর্ণতাবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং 'খ' অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। 'ক' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে জানা যায়, উক্ত অঞ্চলের মানুষেরা রাজনৈতিকভাবে উদাসীন ও অসচেতন। এদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কার্যত নির্জীব এবং সেকেলে। অপরদিকে, 'খ' অঞ্চলের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বিদ্যমান। তাঁরা সরকারি সিদ্ধান্তসমূহের প্রতি লক্ষ রাখে এবং সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করে। এর দ্বারা বোঝা যায়, উক্ত সংস্কৃতিটি সক্রিয়, যার মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপস্থিতি রয়েছে এবং অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমান যুগের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উত্তম। কেননা, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনাগ্রহ ও অসচেতনতা গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে ও রাজনীতিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতি সৃষ্টি হয়, যেখানে কেবল শাসক তার নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। অপরদিকে, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো গণতন্ত্রের কাঙিক্ষত রূপ। এখানে জনগণের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণে রাজনীতি হয়ে উঠে সত্যিকারের রাষ্ট্র কাঠামো যেখানে জনগণও সরকারের মিলিত উদ্যোগের সম্মিলন ঘটে। এতেই প্রকৃতার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থকতা নিহিত থাকে। তাই পরিশেষে বলা যায়, অবশ্যই 'খ' অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাম্য।