গণতন্ত্র ও সুশাসন উভয় ক্ষেত্রেই উদ্দীপকের বিষয়টির তথা জনমতের গুরুত্ব রয়েছে।- মন্তব্যটি যথার্থ।আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে জনমত। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠাই গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য। এজন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত ও সুশাসন একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। জনমতের ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল জনমতকে ভয় করে। জনমতের চাপে সরকার জনকল্যাণকর আইন প্রণয়ন করে থাকে, জনবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। জনমতের চাপে সরকার দুর্নীতি দূর করতে সচেষ্ট হয়, প্রশাসনকে দক্ষ ও গতিশীল করে তোলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়। এভাবে ধীরে ধীরে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার জনমত প্রতিষ্ঠার শর্তগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। আবার সুষ্ঠু জনমত গঠনের জন্যও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সুশাসন, গণতন্ত্র এবং জনমত একই সূত্রে গাঁথা। গণতন্ত্র হলো জনমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সুতরাং বলা যায়, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমতের ভূমিকা ব্যাপক।