উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের জাতীয়তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করেছিল। জাতীয়তা সেই জনসমষ্টিকে নির্দেশ করে যারা একই বংশ, ভৌগলিক অবস্থান, ভাষা, সাহিত্য, আদর্শ, ঐতিহ্য, আচার ও রীতিনীতি দ্বারা ঐক্যবদ্ধ। আধুনিক পৌরনীতি ও সুশাসনে জাতীয়তা বলতে একটি মানসিক ব্যাপারকে নির্দেশ করে। জনগণের মানসিকতা থেকে জাতীয়তা উৎসারিত। জাতীয়তা হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী এমন এক জনসমষ্টি, যা সদস্য ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও ঐতিহ্যের দ্বারা সংঘবদ্ধ এবং অন্যদের থেকে নিজেদের পৃথক মনে করে। জাতীয়তার রাজনৈতিক সংগঠন থাকে না। জাতীয়তার রাজনৈতিক সচেতনতা আসলে এর দ্বারা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলে জাতীয়তা জাতিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে 'ক' নামক রাষ্ট্রটি পূর্ব ও পশ্চিম দুটি অঞ্চলে বিভক্ত। রাষ্ট্রটিতে পূর্বাঞ্চলে অধিকাংশ লোক বাস করে এবং তারা বাংলা ভাষায় কথা বলে। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জনগোষ্ঠী অন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রটির একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়। পূর্বাঞ্চলের জনগণ এ ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত হয়। অনেক ত্যাগ -তিতিক্ষা ও জীবনের বিনিময়ে অবশেষে পূর্বাঞ্চল স্বাধীনতা লাভ করে। এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে 'ক' রাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের জনগণের মাঝে জাতীয়তার যে পরিচয় তুলে ধরে তার মূল উপাদান ছিল ভাষা। আর এই ভাষার প্রতি একাত্মতাবোধ থেকে পূর্বাঞ্চলের জনগণ নিজেদের একাত্ম ভাবতে শেখে এবং আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত হয়।