উদ্দীপকে উল্লিখিত ইঙ্গিতব পূর্ণ চেতনা তথা জাতীয়তার সবগুলো উপাদানের প্রতিফলন ঘটেনি ।
উদ্দীপকে দেখা যায় বিভিন্ন মতাদর্শ ও সংস্কৃতির শাসকগোষ্ঠীর জনগণের ওপর অর্থনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছে। অর্থাৎ মতাদর্শ ও সংস্কৃতির ভিন্নতার দরুন জাতীয়তা অকার্যকর। এর অভিসম্পাদিত নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উদাত্ত আহবানে জনগণের মাঝে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি হয়েছে যা জাতীয়তা গঠনে কাজ করেছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে জাতীয়তা গঠনের কার্যকল উপাদানটি হলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ঐক্য। কিন্তু এছাড়াও জাতীয়তার আরো বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। যেমন- বংশগত ঐক্য, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক ঐক্য, আচরণ ও রীতিনীতি ঐক্য, ভৌগলিক ঐক্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐক্য, মানসিক বা ভাবগত ঐক্য, ধর্মীয় ঐক্য ইত্যাদি। যখন কোন জনসমাজে অন্তর্গত প্রায় সকলেই নিজেদেরকে একই বংশোদ্ভুত মনে করে তখন তাদের মধ্যে একাত্মতাবোধ সৃষ্টি হয়। একই ভাষাভাষী ও অভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতি, রীতিনীতি প্রভৃতি সমভাবে অনুপ্রাণিত করলেও চর্চিত হলে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তা বোধের উন্মেষ ঘটে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের ধর্মের ঐক্য জাতির গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতো। জাতি গঠনে ভৌগলিক ঐক্য ও গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্টত উদ্দীপকে ইঙ্গিত পূর্ণ উপাদানটি ছাড়াও জাতীয়তার আরও বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যা জাতীয়তার অন্যের ঘটনার অন্যতম নিয়ামক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জাতীয়তার সবগুলো উপাদানের প্রতিফলন ঘটেনি। সুতরাং প্রশ্নোত্তর উক্তিটি যথার্থ।