মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের কারণে আমাদের দেশটি স্বাধীন হয়েছে। তাহসিনের দাদারে এই বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেম উভয়ই দুটি মানসিক ধারণা যা মানুষকে দেশ, দেশের মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্য পালনের সর্বদা অনুপ্রেরণা যোগায়। দেশ প্রেম দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে মহৎ ও সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। আর জাতীয়তার ধারণা কোন জনসমাজকে অন্য জন সমাজ থেকে পৃথক করে তোলে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম উভয়ই তাই নিজের মাতৃভূমির প্রতি এক ও কৃত্তিম ভালবাসার বন্ধন সৃষ্টি করে নিজ মাতৃভূমিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনতে শেখায়। আর এর ভিত্তিতেই তারা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে কিংবা নির্দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বদা নিয়োজিত থাকে। উদ্দীপকে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে তাহসিনা দাদা দেশপ্রেম ও জাতীয়তার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে।তার এরূপ বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একই ভাষা সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রভৃতির সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদের অন্য জনসমক্ষে হতে আলাদা মনে করে তখন সেখানে জাতীয়তা বোধের সৃষ্টি হয়। আর স্থান, কাল ও পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে আরও বেশ কিছু উপাদান কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। যখন কোন একটি জনসমাজের অধিকাংশ লোক একই বংশজাত বলে নিজেদের মনে করে তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রবল জাতীয় ঐক্যবোধ সৃষ্টি হয় এবং তা তাদেরকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে জাতির সৃষ্টিতে সহায়তা করে। ভৌগলিক ঐক্য জাতীয়তাবোধের অন্যতম একটি উপাদান। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে অবস্থানকারীরা সহজেই জাতীয়তাবাদের উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। জাতীয়তা সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক উপাদান হলো মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য বা ভাবগত ঐক্য। এই ঐক্যের ফলে জাতীয়তাবোধ তৈরি হয় যা পরবর্তীকালে যাদের পরিণত হয়। জাতি সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্যের অবদান ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।এছাড়াও জাতীয় গঠনে আচার ও রীতিনীতি গত ঐক্য এবং সমার্থক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপরীউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, একটি স্বাধীন জাতি সৃষ্টিতে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই একটি ভৌগলিক এলাকার কিছু মানুষ একাত্ম হয়ে স্বাধীন হতে উদ্বুদ্ধ হয়। যেমনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে আমরা দেখেছি। সুতরাং উদ্দীপকে তাহসিনের দাদার মন্তব্যটি যথার্থ।