না, উদ্দীপকে উল্লেখিত জনগোষ্ঠীকে আমি যথার্থ জাতি বলে মনে করি না ।
জাতি একটি মূর্ত ও পরিপূর্ণ ধারণা। জাতি বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বাস করে এবং যাদের মধ্যে ভাষাগত, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য বিরাজমান থাকে । জাতির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা থাকে প্রবল । উদ্দীপকের 'ক' ভাষাভাষী কিছু জনগোষ্ঠী পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করলেও তারা নিজেদেরকে জাতি বলে মনে করে। এটি মূলত জাতীয়তার ধারণাকে নির্দেশ করে । কারণ তাদের মধ্যে একই ভৌগোলিক আবাস এবং রাজনৈতিক চেতনা নেই। জাতিতে পরিণত হওয়া মানে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করা। জাতি সার্বভৌম ও স্বাধীন হয়, না হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত থাকে। যদিও জাতীয়তা থেকেই জাতি উদ্ভূত হয়, কিন্তু জাতীয়তার রূপকেই জাতি বলা যায় না। এছাড়া একটি রাষ্ট্রে একাধিক জাতীয়তা থাকলেও জাতি কেবল একটিই থাকতে পারে। মোটকথা জাতীয়তা থেকে জাতিতে পরিণত হতে হলে রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্বাধীন অথবা স্বাধীনতাকামী হওয়া আবশ্যক।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের “ক' ভাষাভাষী। জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তা থাকলেও তাদের মধ্যে জাতি গঠনের মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয়নি। তাই বলা যায়, 'ক' ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী যথার্থ জাতি নয়।