উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক স্পেংগলার (Oswald Spengler)-এর মতে, জাতীয়তার উপাদান বংশগত বা ভাষাগত ঐক্য নয়; বরং তা ভাবগত ঐক্য। অর্থাৎ এখানে জাতীয়তার উপাদান হিসেবে বংশগত ও ভাষাগত ঐক্যকে বাদ দিয়ে কেবল ভাবগত ঐক্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে।
কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভাবগত ঐক্যের বাইরেও জাতীয়তার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ- প্রথমত, ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম উপাদান। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হতে এবং জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়।দ্বিতীয়ত, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত ঐক্য জাতীয়তার অন্যতম উপাদান। একই প্রথা, রীতিনীতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য জনগণকে ঘনিষ্ঠ ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি করে।তৃতীয়ত, ধর্মীয় ঐক্য জাতীয়তার আরেকটি উপাদান। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে হিন্দু জাতীয়তার ভিত্তিতে 'ভারত' ও মুসলিম জাতীয়তার ভিত্তিতে 'পাকিস্তান' নামক আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের পেছনে ধর্মীয় ঐক্য প্রাধান্য পেয়েছিল।চতুর্থত, যখন কোনো জনসমষ্টি একই ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। যেমন- বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, একমাত্র সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি বিশ্বাসই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জনগণকে একক জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয়তার উপাদান হিসেবে উদ্দীপকে বর্ণিত ভাবগত ঐক্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো জনসমষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করতে অন্য উপাদানগুলোও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।