দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় ঐক্য কাজ করেছে। একই ধর্মাবলম্বীদের সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকায় তাদের মধ্যে সহজেই একতা সৃষ্টি হয়। একই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। ফলে জাতীয়তা গঠন সহজ হয়। জাতীয়তার উপাদান অনেক (বংশগত ঐক্য, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য প্রভৃতি)। এর মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র তৈরির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ইহুদিরা ধর্মের প্রভাবে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসরায়েল জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করে। বর্তমানে ধর্মের ক্ষেত্রে উদারনীতি গৃহীত হওয়ায় এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার ভাব জাগ্রত হওয়ায় ধর্মের ঐক্য আর জাতীয়তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গণ্য হয় না। যেমন- পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অধিকাংশ জনসমষ্টি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। আবার চীন, ভারত প্রভৃতি রাষ্ট্রের জনগণ বহু ধর্মে বিশ্বাসী হলেও তারা এক একটি জাতি। আবার আরব রাষ্ট্রসমূহে ধর্মীয় ঐক্য থাকলেও তারা ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে বসবাস করছে।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জাতীয় ভাবধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে ধর্মীয় ঐক্যের ভূমিকা এক সময় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে ক্রমশ উপাদানটির গুরুত্ব কমে আসছে।